বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যখন নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর দাবি তুললেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। তাঁর মতে, পৃথিবীর শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর যে অসামান্য অবদান, তার স্বীকৃতিস্বরূপ এই বাহিনীর প্রতি বছর ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার’ পাওয়া উচিত। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সংক্রান্ত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সামরিক কৌশলের ওপর আলোকপাত করা হচ্ছিল। এ সময় একজন সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর সাথে সংগতি রেখে ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ পিস’ রাখা হবে কি না? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই হেগসেথ নিজের কঠোর ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “এই পৃথিবীতে যদি এমন কোনো একক প্রতিষ্ঠান থেকে থাকে যার প্রতি বছর শান্তিতে নোবেল জেতা উচিত, তবে সেটি নিঃসন্দেহে মার্কিন সামরিক বাহিনী।”
নিজের এই দাবির স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে প্রতিরক্ষা সচিব আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বাহিনী কেবল তাদের নিজ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে না, বরং পুরো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ‘গ্যারান্টি’ হিসেবে কাজ করে। তাঁর মতে, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো আগ্রাসন দমনে মার্কিন সেনাদের আত্মত্যাগই তাঁদের এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের প্রধান দাবিদার করে তোলে।
পিট হেগসেথের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদে চলমান বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগছি যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের শর্তাবলী ও দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে রণাঙ্গনে হেগসেথের এমন শক্ত অবস্থানের ঘোষণা এবং অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ইরানের অনমনীয় শর্ত—এই দুই বিপরীতমুখী স্রোত মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সমাধানকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। মার্কিন বাহিনীর এই ‘শান্তির দূত’ ইমেজ প্রমাণের দাবিটি আন্তর্জাতিক মহলে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে যে সামরিক শক্তির আত্মবিশ্বাস এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, হেগসেথের এই বক্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।