মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন এক চরম অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এবার সরাসরি ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার নজিরবিহীন ঘোষণা এসেছে। খোদ মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিস্ফোরক বার্তায় জানিয়েছেন, আজ শনিবার (৭ মার্চ) রাতে ইরানের ওপর এযাবৎকালের সবচাইতে বড় ও শক্তিশালী ‘বোমাবর্ষণ কর্মসূচি’ বা বিমান হামলা পরিচালনা করা হবে। এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের দীর্ঘদিনের সামরিক শক্তিকে এক ধাক্কায় পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট এই সম্ভাব্য অভিযানের রূপরেখা তুলে ধরেন, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশ করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (মিসাইল লঞ্চিং সাইট) এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি দাবি করেন, এই হামলার ফলে ইরানের সমরাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা ইরানের এই সক্ষমতাগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর (ডিজেবল) করে দিচ্ছি।”
কেবল সামরিক কারণ নয়, এই হামলার পেছনে শক্তিশালী অর্থনৈতিক যুক্তিও দাঁড় করিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ তোলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর তেহরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটানোর বিষয়টিকে দায়ী করেন। আমেরিকার মতে, বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার এই প্রবণতা বন্ধ করতেই তাঁরা এই চূড়ান্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একজন অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ধরণের সরাসরি সামরিক হামলার ঘোষণা আসাটা কিছুটা অস্বাভাবিক হলেও, এটি মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টোটাল ওয়ার’ বা সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতিরই প্রতিফলন। যদি আজ রাতে সত্যিই এই মাত্রার বোমাবর্ষণ শুরু হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক নতুন সংকট ডেকে আনতে পারে। সারা বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য মহাপ্রলয়ের দিকে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।