ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা: বাইডেনকে দায়ী করে ট্রাম্পের বিস্ফোরক পোস্ট!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইয়াসমিন নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। হাইতির এক নাগরিকের হাতে সংগঠিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখন উত্তাল মার্কিন রাজনীতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান জো বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য সরাসরি হোয়াইট হাউসের ‘দুর্বল’ নীতিকে দায়ী করেছেন।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প এই প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি দাবি করেন, খুনি ওই হাইতিয়ান নাগরিককে মার্কিন আদালত অনেক আগেই দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু জো বাইডেন প্রশাসন হাইতির নাগরিকদের জন্য যে বিতর্কিত ‘বিশেষ সুবিধা’ বা টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) চালু রেখেছে, তার অপব্যবহার করেই ওই খুনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার সুযোগ পায়। আর এই প্রশাসনিক শিথিলতার বলি হতে হলো নিরপরাধ বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিনকে।

হত্যাকারীকে ‘পশু’ হিসেবে সম্বোধন করে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “বাইডেন প্রশাসনের একটি জালিয়াতিপূর্ণ ও অপব্যবহৃত প্রোগ্রামের কারণেই এই ভয়ংকর অপরাধী এখানে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছে। আমার প্রশাসন এই ধরনের আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু উগ্র জেলা আদালতের বিচারকরা বারবার সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।” তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, এই একটি ঘটনাই বিচারকদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ঘাতকের নাম জোয়াকিন। সংগৃহীত সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জোয়াকিন হাতে একটি হাতুড়ি নিয়ে স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনে অতর্কিতে হামলা চালায় এবং সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। সে সময় ওই গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিন পরিস্থিতি দেখতে বাইরে বেরিয়ে এলে জোয়াকিন তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতক প্রথমেই ইয়াসমিনের মাথায় সজোরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে মাথায় আরও ছয়বার হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। পৈশাচিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইয়াসমিন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জোয়াকিন স্বীকার করেছেন যে, তিনি ওই ক্লার্ককে হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জোয়াকিন ২০২২ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সে বছরই আদালত তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিলেও টিপিএস সুবিধার আওতায় তিনি একটি অস্থায়ী ভিসা পান। ২০২৪ সালে সেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর দেশত্যাগ করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি ঘটলো, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া