মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ১১তম দিনে এসে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলের এক জোরালো ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান বনাম ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী লড়াইয়ে যখন লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউস থেকে এলো যুদ্ধ অবসানের বার্তা। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই সমাপ্ত হতে যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অতর্কিত হামলায় ইরানের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার। এমন এক মানবিক বিপর্যয়ের আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তবে এই যুদ্ধ বিরতির ইঙ্গিতের পেছনে কাজ করছে এক বড় ধরণের কূটনৈতিক চাল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় টেলিফোনে আলাপ করেছেন। এই রুদ্ধশ্বাস ফোনালাপে পুতিন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে ‘সহায়তা করার’ প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন।
সামরিক সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন যে, এখন পর্যন্ত ইরানজুড়ে ৫ হাজারের বেশি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে নিখুঁত আঘাত (Precision Strike) হেনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। মূলত ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ধ্বংস করাই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা ইরানের ড্রোন তৈরির প্রতিটি গোপন আস্তানা সম্পর্কে অবহিত এবং সেগুলো একটার পর একটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।” পেন্টাগনের গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা ‘ক্যাপাসিটি’ এখন ১০ শতাংশ বা তারও নিচে নেমে এসেছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার মানে হলো ইরানকে সামরিকভাবে প্রায় পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলেই ওয়াশিংটন মনে করছে। এখন পুতিনের মধ্যস্থতায় একটি ‘সম্মানজনক’ প্রস্থান বা চুক্তির পথ খুঁজছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। তবে এই ১১ দিনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা ইরান ও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সারা বিশ্ব এখন গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছে তেহরানের প্রতিক্রিয়ার দিকে—তারা কি এই পরাজয় মেনে নেবে, না কি ধ্বংসস্তূপ থেকেই নতুন কোনো প্রতিরোধের ডাক দেবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।