ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান মিত্র রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং অস্পষ্ট সমর-পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে দেশ মিডিয়া এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটি নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ক্যানবেরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার অধিকাংশই ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এখন সময় এসেছে এই চরম উত্তেজনার অবসান ঘটানোর। আলবানিজ মনে করেন, অযথা সংঘাত দীর্ঘায়িত করলে তা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলে বলেন, “এখন প্রশ্ন হলো—আর কী অর্জনের বাকি আছে? এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের শেষ কোথায় বা এর চূড়ান্ত পরিণতিই বা কী হতে যাচ্ছে? বিষয়টি এখনও বিশ্ববাসীর কাছে মোটেও স্পষ্ট নয়।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, আধুনিক বিশ্বের সাপ্লাই চেইন এবং গ্লোবাল মার্কেট অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ততই গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে (এনার্জি মার্কেট) ইতিমধ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তেলের দামের উর্ধ্বগতি এবং শিপিং রুটে নিরাপত্তার অভাব বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘একতরফা’ সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এই প্রশ্ন তোলা ট্রাম্পের জন্য নতুন এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলবানিজের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরোধী জনমত প্রবল হচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশ যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি কামনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন এখন অস্ট্রেলিয়ার এই ‘স্পষ্টতা’ দাবির প্রেক্ষিতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।