জ্বালানি ডিপো থেকে রাডার সিস্টেম—ইরানি নিশানায় লণ্ডভণ্ড মার্কিন সামরিক শক্তি?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার এক চরম ও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করা হয়েছে যে, তারা প্রতিবেশী দেশ জর্ডান এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শক্তিশালী ও সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তেহরানের এই ঝটিকা অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ অবকাঠামো, বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডার এবং কুয়েতে অবস্থানরত সেনাদের বড় একটি সমাবেশ। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করার পর থেকেই পুরো বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের ‘অশনিসংকেত’ দেখা দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ‘আজরাক’ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে প্রথম হামলাটি চালানো হয়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন বাহিনীর অত্যাধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিশাল জ্বালানি সংরক্ষণাগার বা ‘ফুয়েল স্টোরেজ ট্যাংক’ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এই আজরাক বিমানঘাঁটিটি দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের বিভিন্ন বিশেষ অপারেশন ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ফলে এই হামলায় মার্কিনিদের আঞ্চলিক সক্ষমতা বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, কুয়েতের ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটিতে ইরানের এলিট ফোর্স—ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এক ভয়াবহ আক্রমণ পরিচালনা করেছে। সেখানে মার্কিন সেনাদের একটি বড় সমাবেশকে নিশানা করার পাশাপাশি তাদের ‘প্রারম্ভিক সতর্কবার্তা রাডারব্যবস্থা’ বা ‘আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম’ লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়। আইআরজিসি-র এই সাহসী দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যুহভেদের অন্যতম বড় উদাহরণ। এই ধরনের রাডার বিকল করার অর্থ হলো—পরবর্তী যেকোনো হামলা শনাক্ত করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।

তবে এই ভয়াবহ দাবির বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এক অদ্ভুত নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর ‘পেন্টাগন’ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা মার্কিন ‘সেন্টকম’ (CENTCOM) এখন পর্যন্ত এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য প্রদান করেনি। এমনকি জর্ডান ও কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ‘রিঅ্যাকশন’ পাওয়া যায়নি। এই ‘ডিজিটাল’ ও দ্রুতগতির খবরের যুগে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় শক্তিগুলোর নীরবতা জনমনে গভীর রহস্য ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে। অনেকে ধারণা করছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও পরবর্তী পাল্টা হামলার ‘বাজেট’ বা রণকৌশল নির্ধারণেই ব্যস্ত রয়েছে হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা। বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।