ইউরোপের জন্য বড় দুঃসংবাদ? গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন পুতিন!

বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ইউরোপের দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রথাগত ইউরোপীয় বাজারের পরিবর্তে এখন বিকল্প ও নতুন বাজারগুলোতে মনোনিবেশ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে ইউরোপে রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি মস্কো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে তিনি জানিয়েছেন।


গত বুধবার (৪ মার্চ) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে পুতিন দেশটির এই কৌশলগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ রাশিয়ার পাইপলাইন গ্যাস এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, রাশিয়া তা পর্যবেক্ষণ করছে। এই ‘ডেডলাইন’ সামনে রেখেই রাশিয়া এখন তার জ্বালানি রপ্তানি ইউরোপের বাইরে অন্য সম্ভাবনাময় বাজারগুলোতে সরিয়ে নেওয়ার মূল্যায়ন শুরু করেছে।


পুতিন তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্ববাজারের সমীকরণ তুলে ধরে বলেন, “এখন বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন বাজার উন্মুক্ত হচ্ছে। আমাদের জন্য হয়তো ইউরোপীয় বাজারে গ্যাস সরবরাহ এখনই বন্ধ করে দেওয়া ইতিবাচক হবে। এতে আমরা উদীয়মান বাজারগুলোতে গিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাব।” তিনি আরও দাবি করেন, এরই মধ্যে এমন কিছু ক্রেতা বা দেশ পাওয়া গেছে যারা রাশিয়ার একই প্রাকৃতিক গ্যাস ইউরোপের চেয়েও উচ্চ মূল্যে কিনতে প্রস্তুত রয়েছে। ফলে ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে অন্য বাজারে গ্যাস সরবরাহ করা রাশিয়ার জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতে পারে।


এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখার পরিকল্পনা ঘোষণা করলে দাম কিছুটা কমে আসে, তবে বাজারের অস্থিরতা কাটেনি। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই পুতিনের এমন মন্তব্য জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।


উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপে রুশ গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও রাশিয়া এখনো সার্বিয়া, হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়ার মতো কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম ইউরোপীয় দেশে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া নোভাটেক পরিচালিত ‘ইয়ামাল এলএনজি’ প্রজেক্ট থেকেও কিছু পরিমাণ গ্যাস ইউরোপে যাচ্ছে।


ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ১৩ শতাংশ ছিল রাশিয়ার দখলে। এই আমদানিকৃত গ্যাসের বার্ষিক আর্থিক মূল্য ১৫ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি। পুতিনের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিশ্লেষণ চলছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।