এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে মুখ খুললেন বিল ক্লিনটন: ৬ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার জবানবন্দিতে কী জানালেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির রহস্য উন্মোচনে এবার সরাসরি মার্কিন কংগ্রেসের মুখোমুখি হলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। আলোচিত এপস্টেইন নথির তদন্তে গঠিত মার্কিন হাউজ ওভারসাইট কমিটির সামনে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা ব্যাপী এক ম্যারাথন জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এই শুনানিতে ক্লিনটন তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।


গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গোপনে অনুষ্ঠিত এই জবানবন্দিতে বিল ক্লিনটন জানান, জেফরি এপস্টেইনের নেপথ্য অপরাধ জগত সম্পর্কে তিনি বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না। তদন্ত কমিটির সামনে আত্মপক্ষ সমর্থন করে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, এপস্টেইনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যদি তার সামান্যতম আভাসও থাকত, তবে তিনি কখনোই এই ধনাঢ্য ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করতেন না। শুধু তাই নয়, ক্লিনটন জোর দিয়ে বলেন, অপরাধের সত্যতা জানলে তিনি নিজেই এপস্টেইনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতেন।


কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার এই শুনানিকে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চললেও ক্লিনটন কমিটির প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই শুনানি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা রিপাবলিকানদের এই উদ্যোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ক্লিনটন দম্পতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেছেন।


বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্যদানের ঠিক একদিন আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি), একই কমিটির সামনে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তিনিও দৃঢ়তার সাথে জানান যে, এপস্টেইনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। এমনকি তিনি ব্যক্তিগতভাবে এপস্টেইনের সাথে কখনো সাক্ষাৎ করেননি বলেও কমিটিকে নিশ্চিত করেন।


নথি অনুযায়ী, বিল ক্লিনটন ২০০৫ সালের পর থেকে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিন্ন করেন। যদিও এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অপরাধে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখন পর্যন্ত আনা হয়নি। উল্লেখ্য, এই জবানবন্দি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছিল। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ক্লিনটন দম্পতির সাক্ষ্য দেওয়ার সময় নির্ধারিত থাকলেও কৌশলগত কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।


গোপন এই শুনানিতে ১০ জন রিপাবলিকান সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্লিনটন দম্পতির এই আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি এপস্টেইন কেলেঙ্কারির দীর্ঘস্থায়ী জট খুলতে এবং মার্কিন ক্যাবিনেট ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরিষ্কার করতে সহায়ক হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।