দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা ও আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সফর করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরের অংশ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এই বৈঠকের মূল আলোচনার বিষয় ছিল বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিজেই এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান সফর শেষে তার পরবর্তী গন্তব্য ওমান এবং রাশিয়া। মূলত প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অংশীদারদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ করাই তার এই ঝটিকা সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
তেহরানের পক্ষ থেকে এই সফরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি সংলাপে বসার পরিকল্পনা তাদের নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করতেই মূলত ইরানি প্রতিনিধি দল এখন ইসলামাবাদে অবস্থান করছে। তবে কাকতালীয়ভাবে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যরাও একই সময়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, গত ১৯ এপ্রিল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য পুনরায় পাকিস্তানে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ইসলামাবাদ জুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কূটনৈতিক পাড়াগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই পাকিস্তান সফর এবং পরবর্তীতে ওমান ও রাশিয়া ভ্রমণ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে তেহরানের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে এই সরাসরি বৈঠক দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া