মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরমহলেই এখন তীব্র বাদানুবাদ ও নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টা তাঁকে এই যুদ্ধ থেকে দ্রুত সরে আসার এবং একটি কার্যকর ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা বেরিয়ে আসার পথ খোঁজার পরামর্শ দিচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েই মূলত চিন্তিত হোয়াইট হাউসের এই অংশটি।
উপদেষ্টাদের এই আকস্মিক তড়িৎ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ। তাঁরা সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজারে ‘বাজেট’ ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া এই যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাঁরা আশঙ্কা করছেন। উপদেষ্টাদের যুক্তি হলো, ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার যে প্রাথমিক ও মূল লক্ষ্যগুলো ছিল, তা ইতিমধ্যে সফলভাবে অর্জিত হয়েছে। তাই এখন আর সময় নষ্ট না করে একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য যে, গত সোমবার খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই বিশাল সামরিক অভিযান খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। তবে প্রশাসনের ভেতরের অন্য একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মনে করছে, এখনই যুদ্ধ থামানো হবে একটি অপরিণত সিদ্ধান্ত। উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, তেহরান যতদিন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মার্কিন স্বার্থে তাদের প্রচ্ছন্ন হামলা অব্যাহত রাখবে এবং মিত্র দেশ ইসরায়েল যতদিন পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত থাকবে, ততদিন এই যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
সবচাইতে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, যুদ্ধের ময়দানে ইরানের অনমনীয় অবস্থান খোদ ট্রাম্পকেও অবাক করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ সামরিক চাপের মুখেও তেহরান যেভাবে দেওয়া শর্তগুলো বারবার প্রত্যাখ্যান করছে, তাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন। মূলত নিজের মনমতো একটি ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প হয়তো পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে যেতে রাজি হবেন না। তবে উপদেষ্টাদের দেওয়া দ্রুত সরে আসার পরামর্শ এবং মাঠের কঠিন বাস্তবতার মাঝে হোয়াইট হাউস এখন এক বড় ধরণের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের লেলিহান শিখা কত দ্রুত নিভবে, তা এখন ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।