দীর্ঘ দুই মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে চলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে উপস্থিত হয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের এই আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন একটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কো রুবিওর এই উপস্থিতি ছিল অনেকটা নজিরবিহীন। মূলত হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় নিজেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রুবিওর এই ঘোষণার পেছনে মার্কিন কংগ্রেসের তীব্র চাপ এবং ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ আইনের বাধ্যবাধকতা কাজ করেছে। ওই আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ব্যতীত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত কোথাও যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আগ্রাসন শুরুর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কংগ্রেসকে অবহিত করেছিলেন। সেই হিসেবে ১ মে (শুক্রবার) শেষ হয়েছে সামরিক অভিযানের ৬০ দিনের বৈধ সময়সীমা। এই সময়সীমা অতিক্রম করলে ট্রাম্প প্রশাসনকে আইনি জটিলতা ও কংগ্রেসের জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হতো। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতেই হোয়াইট হাউস অত্যন্ত কৌশলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর সরাসরি সংঘাত বাড়াতে চায় না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি টেকসই শান্তি চুক্তির পক্ষে। তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য পণ্যবাহী নৌযানের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী সেখানে অবস্থান করবে। এই নতুন মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, “এটি একটি ছোট পরিসরের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান। আমাদের ওপর নতুন করে কোনো আক্রমণ না হলে আমরা সামরিকভাবে সরাসরি লড়াইতে জড়াব না।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও তথ্য প্রদান করেন যে, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটে এখন পর্যন্ত ১০ জন বেসামরিক নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮৭টি দেশের প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে উদ্ধার ও সহায়তা প্রদান করাই ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর অন্যতম মানবিক লক্ষ্য। সমরবিদদের মতে, ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধের অধ্যায় আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আড়ালে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাই ওয়াশিংটনের আসল লক্ষ্য।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।