মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার আবহে ইরানকে সরাসরি ও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের কোনো শক্তিশালী অবস্থান বা ‘কার্ড’ অবশিষ্ট নেই। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে লেখেন, “ইরান কেবল আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ন্ত্রণ করে সাময়িকভাবে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশটির বর্তমান নেতারা এখনও বেঁচে আছেন শুধুমাত্র আলোচনার টেবিলে বসার জন্য।”
এদিকে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন নৌবাহিনী পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ট্রাম্প। ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো যে কোনো মুহূর্তে হামলা শুরু করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “এই আলোচনার ফলাফল কী হতে যাচ্ছে, তা আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিশ্চিতভাবে জানতে পারব।”
ইসলামাবাদের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল আলোচনায় ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রভাবশালী উপদেষ্টা জারেড কুশনার। আলোচনার মূল টেবিলে রয়েছে ইরানের প্রায় ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর তেহরানের সমর্থন বন্ধ করার মতো জটিল বিষয়গুলো। বিনিময়ে ইরান চাইছে তাদের ওপর থেকে কঠোর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হোক।
তবে আলোচনার শুরুতেই পাল্টাশর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য দুটি বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—প্রথমত, লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আটকে পড়া ইরানের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক সম্পদ অবমুক্ত করতে হবে। বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে জমা রাখা তাদের তেল ও গ্যাস রপ্তানির কোটি কোটি ডলার উত্তোলন করতে পারছে না।
ইরানের আন্তরিকতা নিয়ে অবশ্য গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, তেহরান দ্বিমুখী আচরণ করছে। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা জানি না তারা সত্যি বলছে কিনা। তারা ক্যামেরার সামনে এসে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের কথা বলছে, আবার পর্দার আড়ালে গিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।”
এতসব সংশয় ও উত্তেজনার মাঝেও হোয়াইট হাউস একটি ইতিবাচক পরিণতির আশা ছাড়ছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি টেকসই চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি দাবি করেন। বিশ্ব রাজনীতি এখন ইসলামাবাদের সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে, যার ওপর নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া