তেলের বাজারে মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা! ইরানের প্রধান তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আমেরিকার ভয়াবহ হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত ও বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আকস্মিক ও শক্তিশালী ঘোষণায় জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড এবং তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘খারগ দ্বীপে’ অবস্থিত প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই অভিযানের সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেন। মূলত ইরানের জ্বালানি খাতের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ‘অপারেশন’ চালানো হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

খারগ দ্বীপের ওপর এই আক্রমণ কেবল একটি সামরিক অভিযান নয়, বরং ইরানের অস্তিত্বের ওপর বড় ধরণের আঘাত। কারণ দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই একক দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি অবিলম্বে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালীতে’ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা প্রদান বন্ধ না করে, তবে পরবর্তী ধাপে দ্বীপটির তেল উত্তোলনের মূল অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলোতেও সরাসরি হামলা চালানো হবে। এর ফলে ইরানের অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধসে পড়ার উপক্রম হতে পারে।

এদিকে পেন্টাগন সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত এই চরম পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশেষ ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ (Marine Expeditionary Unit) ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে খারগ দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ‘সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন’। তবে বরাবরের মতোই এই ক্ষয়ক্ষতির দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, আমেরিকার হামলায় সাধারণ কিছু ক্ষতি হলেও তেল সংশ্লিষ্ট কোনো প্রধান অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

হামলার প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি তেহরানও। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, যদি তাদের জাতীয় জ্বালানি অবকাঠামোতে বড় ধরনের কোনো আঘাত হানা হয়, তবে তারা কেবল নিজেদের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর তেল স্থাপনা ও বাণিজ্যিক স্বার্থেও তারা একযোগে হামলা চালাবে। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ‘ট্যাংকার’ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলা এই সংঘাত এখন বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেকোনো মুহূর্তে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।