ট্রাম্প কি নিজের দেশের স্বার্থই পুড়িয়ে ছাই করছেন? ইরানি স্পিকারের বিস্ফোরক বার্তায় তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন এক চরম অগ্নিগর্ভ মোড় নিয়েছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উস্কানি দিয়ে কেবল অন্য দেশ নয়, বরং খোদ ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ পুড়িয়ে ছাই করছেন’। শনিবার (৭ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

গালিবাফ তাঁর বার্তায় বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেন যে, এই সংঘাত যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বা ‘সাপ্লাই চেইন’ অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে তেল উৎপাদন বা বিক্রির মতো কোনো গ্লোবাল সক্ষমতাই আর অবশিষ্ট থাকবে না। এটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক ও ‘এনার্জি’ বা জ্বালানি নিরাপত্তাকে এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই আগ্রাসী অবস্থানের নেপথ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন এই ইরানি কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প এখন নেতানিয়াহুর ‘বিভ্রান্তিকর উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ পূরণ করতেই পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিসর্জন দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এই হঠকারী ও একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি খোদ আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরুর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছে যে, এই যুদ্ধের আগুন শেষ পর্যন্ত খোদ ওয়াশিংটনকেও দগ্ধ করবে। ইরানের এই শীর্ষ নেতার সর্বশেষ বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধের পথে হাঁটলে ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবে পরিচিত আমেরিকাও সম্ভবত নিরাপদ থাকবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।