৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তিতে ‘লটারি’ প্রথা বাতিলের ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

জাতীয় সংসদে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের শিক্ষা ও সমাজকল্যাণ খাতের সংস্কার নিয়ে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা। সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পৃথক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন।

শিক্ষায় বড় নিয়োগ ও সংস্কার:
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদকে জানান, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সনদের বৈধতা নিয়ে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব শীঘ্রই এই আইনি ধোঁয়াশা কাটিয়ে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে কারিআনা পাস করা প্রার্থীদের এই নিয়োগের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি আরও যোগ করেন যে, ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় শিক্ষা ও শিক্ষকদের অধিকারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে বিগত সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের চালু করা লটারি সিস্টেম আমার কাছে কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত মনে হয়নি। মেধার অবমূল্যায়ন রোধে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা সকল অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে জনমতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’ এছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারি তদারকির আওতায় এনে যুগোপযোগী করার পাশাপাশি ইবতেদায়ি ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাকে একটি সমন্বিত বা ইন্টিগ্রেটেড শিক্ষা পদ্ধতির অধীনে আনার কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে দেশে বিদ্যমান ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি। একই সাথে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান এবং পুরোনো আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই বা স্ক্রিনিং করার ঘোষণাও দেন শিক্ষামন্ত্রী।

সামাজিক নিরাপত্তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও স্বচ্ছতা:
এদিকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রকৃত দুস্থদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, বর্তমানের বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধাকে একটি ‘সমন্বিত ছাতার’ নিচে নিয়ে আসতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামক একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ভাতা বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ দাবি করা বা স্বজনপ্রীতি করা এক ধরণের জঘন্য অপরাধ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তালিকা তৈরিতে যে নজিরবিহীন অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। বিদ্যমান তালিকা যাচাই-বাছাই করে ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হবে এবং প্রকৃত হকদারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে।’ মূলত স্বচ্ছতা ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আমূল পরিবর্তনের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।