দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কি একদম ফ্রি হচ্ছে? ডিসি সম্মেলনে আসছে বড় ঘোষণা

দেশের মাঠ প্রশাসনের নীতি-নির্ধারণী পর্যালোচনার সর্বোচ্চ আসর ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬’ আগামী ৩ মে থেকে রাজধানী ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে। চার দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন চলবে ৬ মে পর্যন্ত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে ডিসিদের প্রথম আনুষ্ঠানিক মিলনমেলা। এই সম্মেলনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হয়েছে, যেখানে সরকারের ‘ভিশন’ ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারিত হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে সারা দেশের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের পর বর্তমানে ৪৯৮টি প্রস্তাবকে মূল আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

শিক্ষা বিষয়ক প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম বৈপ্লবিক সুপারিশ হলো—দরিদ্র পরিবারের সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা। একই সাথে দেশের সব শিশুর মানসম্মত শিখন নিশ্চিত করতে একটি ‘একীভূত শিক্ষাক্রম’ ও সমন্বিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন ডিসিরা। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিবন্ধী শিশুদের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে এই ‘বাজেট’ ও আইনি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসনিক কঠোরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিসিরা প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যেন তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তাঁদের এই বিশেষ ক্ষমতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং ফরিদপুরে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিও সম্মেলনে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও ২০১৭ সাল থেকে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি)—এই পাঁচটি নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা মাতৃভাষায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, তবে পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবে এই কর্মসূচি সংকটের মুখে পড়েছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হলেও, এবার নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে পুরো আয়োজনটি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনেই সম্পন্ন হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে এই ডিসি সম্মেলন একটি ঐতিহাসিক ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে কাজ করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।