বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়করণের দিন শেষ, বহিরাগত ঠেকাতে কঠোর হুঁশিয়ারি আমির খসরুর

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এবং জ্ঞানচর্চাকে অগ্রাধিকার দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের দলীয়করণের পথ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ আর থাকবে না। একইসঙ্গে ক্যাম্পাসগুলোতে বহিরাগতদের অনধিকার প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ এর শুভ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাউকে কোনো বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হবে না।

দেশের বর্তমান উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সরকার একটি স্থিতিশীল, সংবেদনশীল এবং সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে রাজনীতির নামে যারা জনজীবনে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই; তারা সমাজের শত্রু। যারা আইনের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তারা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

সারাদেশে চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা, যা মূলত বৈশ্বিক সংকটেরই প্রতিফলন। তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে স্বীকার করেন যে, দেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নেই—এমন দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থা এখনো অনেক ভালো বলে তিনি দাবি করেন। মন্ত্রী বলেন, “জনগণের ভোগান্তি লাঘবের কথা মাথায় রেখেই আমরা জ্বালানির দাম ন্যূনতম পর্যায়ে বৃদ্ধি করেছি। অনেক উন্নত দেশেও যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কারফিউ বা কারখানা বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, সেখানে আমাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এখনো কল-কারখানা সচল রয়েছে।”

দেশের ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি বিগত সময়ে অর্থনৈতিক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৩০ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো বর্তমানে প্রায় অর্থশূন্য হয়ে পড়েছে এবং পুঁজিবাজারও অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের কষ্টার্জিত আমানত ফেরত পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “ব্যাংক খাতকে একটি ধ্বংসস্তূপের ওপর রেখে যাওয়া হয়েছে। এই বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে খাতটিকে পূর্বের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা সময়সাপেক্ষ কাজ। তবে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এটি সংস্কারের চেষ্টা করছি।”

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া