৪৪তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৩২৬ জন নবনিযুক্ত কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে প্রভাষক পদে পদায়ন করেছে সরকার। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা স্তরের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ করে মফস্বল ও জেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আ. কুদ্দুস স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত নিয়োগ আদেশের ভিত্তিতেই এই কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার আগে সকল কর্মকর্তা তাঁদের প্রয়োজনীয় অবহিতকরণ প্রশিক্ষণ বা 'ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম' সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বিপিএসসি থেকে ৩৪৮ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৩২৬ জন কর্মকর্তা চূড়ান্তভাবে যোগদানের প্রক্রিয়ায় সামিল হয়েছেন। জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি কলেজে তাঁদের এই নিয়োগ ও পদায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
তবে নতুন এই কর্মকর্তাদের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি কড়া ও বাধ্যতামূলক শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবনিযুক্ত প্রতিটি কর্মকর্তাকে তাঁদের নিজ নিজ নির্ধারিত কর্মস্থলে কমপক্ষে দুই বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই দুই বছরের সময়সীমা পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো ধরনের বদলি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আবেদন কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই বিবেচনা করবে না। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষার মান ধরে রাখা এবং পদায়নকৃত কলেজগুলোতে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেই সরকারের এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে যে, নতুন কর্মকর্তাদের যোগদানের প্রতিবেদন আগামী ২৫ মার্চের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) পাঠাতে হবে। এছাড়া যদি কোনো বিশেষ কারণে পদায়ন করা কলেজে পদ শূন্য না থাকে বা যোগদানের ক্ষেত্রে কোনো কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়, তবে কর্মকর্তাদের যোগদানপত্র গ্রহণ করে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত এই তরুণ কর্মকর্তাদের সৃজনশীলতা ও মেধা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।