শিক্ষক নিয়োগের মহাযজ্ঞ শুরু: ২১ হাজার প্রতিষ্ঠানে মিলল শূন্য পদের খবর, বিপাকে পড়বে কারা?

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ২১ হাজারের বেশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফলভাবে তাদের ‘ই-রেজিস্ট্রেশন’ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এর ফলে এখন থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষকের পদ শূন্য হলে সেই তথ্য সরাসরি অনলাইনে এনটিআরসিএ-এর কাছে পাঠানোর পথ সুগম হলো।

এনটিআরসিএ-এর দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ১ মার্চ রাত ১২টায় এই ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। মূলত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমে মোট ২১ হাজার ৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। শুরুতে এই কার্যক্রমের সময়সীমা ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ অনুরোধ এবং কারিগরি সুবিধার কথা চিন্তা করে সময়সীমা ১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ভুল তথ্য সংশোধনের (এডিট) সুযোগও পেয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এনটিআরসিএ আইন ২০০৫ এবং সরকারের জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শূন্যপদের ক্ষেত্রে ই-রেজিস্ট্রেশন এবং ই-রিকুইজিশন করা এখন বাধ্যতামূলক। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে কিংবা সঠিক সময়ে তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং প্রতিষ্ঠানের এমপিও (MPO) বাতিলের পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মূলত তথ্যের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এনটিআরসিএ-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (www.ntrca.gov.bd) এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা আগে থেকেই দেওয়া ছিল। সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদেরও এই পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ই-রেজিস্ট্রেশনের ফলে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহে যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল তা দূর হবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা দ্রুততর সময়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল এই পদ্ধতি দেশের শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।