বৈশ্বিক অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস আজ সোমবার মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ ডলারের গড় বিনিময় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ দশমিক ৫৮ টাকায়। গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ ডলারের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ ডলারের ক্রয়মূল্য বা বাইং রেট বাড়লেও বিক্রয় মূল্যের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার কারণে আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার সংগ্রহের এক ধরণের তাগিদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অস্থিরতা কেবল ডলারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে নিত্যপণ্যের ‘বাজেট’ এবং শিল্পোৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। সাধারণ মানুষ এখন তাদের ‘স্মার্টফোন’ ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রার দরের এই ‘লাইভ আপডেট’ পর্যবেক্ষণ করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডলারের দামে অস্থিরতা থাকলেও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিনিময় হার আজ অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম আজ অপরিবর্তিত রয়েছে। একই তালিকায় আছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপি এবং জাপানি মুদ্রা ইয়েন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত এই দরের চেয়ে খোলাবাজার বা ‘কার্ব মার্কেটে’ এসব মুদ্রা আরও কিছুটা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই অস্থিতিশীলতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরণের ‘ভাইরাস’ বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কঠোর ‘প্রটোকল’ বা বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। আপাতত ডলারের এই বাড়তি দাম ব্যবসায়ী মহলে দুশ্চিন্তার ভাঁজ দীর্ঘতর করছে, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হতে পারে সাধারণ ভোক্তাদের।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।