কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপুল পরিমাণ সার ও মসুর ডাল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় চার লটে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এ জন্য খুলনার ফুলতলার ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’কে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। কর ও ভ্যাটসহ ডাল কেনায় মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এতে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়বে ৭৬ দশমিক ৮৯ টাকা।
অন্যদিকে কৃষি খাতের চাহিদা পূরণে জিটুজি চুক্তির আওতায় ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চারটি লটে এসব সার আমদানি করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশনের (সিসিসি) মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় দুই লটে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে।
কানাডা থেকে আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন করে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। দুই লটে এ সার আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
একই চুক্তিমূল্যে রাশিয়ার ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন’ (প্রডিনটর্গ) থেকে আরও ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এ সার কেনায় সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাআদেন’-এর সঙ্গে চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৫ মার্কিন ডলার দরে এ সার আমদানি করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে চার লটে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির পাশাপাশি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডালের মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এসব ক্রয় কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সভায় উপস্থাপিত সার ও ডাল কেনার সবকটি প্রস্তাবই চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও সরবরাহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত পণ্য সংগ্রহ করা হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।