১২৩ টাকা ছাড়াল ডলার; আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে কি তবে আরও চাপে পড়বে সাধারণ মানুষ?

বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের পরিধি ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। তবে এই ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক তৎপরতাকে সচল রাখতে গিয়ে মুদ্রাবাজারে দেখা দিয়েছে নতুন ধরণের অস্থিরতা। বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত জোগান থাকার পরেও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) দেওয়া কঠিন শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে টাকার মান ক্রমান্বয়ে কমানো হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের দাম চলতি মাসে গড়ে প্রায় ১ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত মাস পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে মুদ্রাবাজারের চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। আজকের (২৩ জুলাই ২০২৬) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। আমদানিনির্ভর এই অর্থনীতিতে ডলারের এই মূল্যবৃদ্ধি নিত্যপণ্যের ‘বাজেট’ ও উৎপাদন খরচের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের প্রথম সারির বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘প্যাকেজ’ চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
মার্কিন ডলার বর্তমানে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা, ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো ১৪০ টাকা ৭১ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ড ১৬৪ টাকা ৮৭ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। এছাড়া কানাডিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ৮০ পয়সা, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৬ টাকা ৩৯ পয়সা, চাইনিজ ইয়েন ১৮ টাকা ২৮ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলার ৯৫ টাকা ৮৭ পয়সায় কেনাবেচা চলছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের রুপি ১ টাকা ২৮ পয়সা, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৩০ টাকা ১৪ পয়সা, সৌদি রিয়াল ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা, কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৯৯ পয়সা, কুয়েতি দিনার ৩৯৭ টাকা ১১ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩ টাকা ৫৩ পয়সা দরে নির্ধারিত হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে যেকোনো সময় এই হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার এবং অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক হলেও আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের চাপে ডলারের ঊর্ধ্বগতি থামানো যাচ্ছে না। চলতি মাসের শুরুতে যেখানে ডলারের সর্বনিম্ন দাম ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা, তা এখন ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছানোয় আমদানিকারক এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি বিরাজ করছে। এই দর বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্যস্ফীতির ‘ভাইরাস’ আরও তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।