যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপ করা ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য বড় কোনো বিপর্যয় নয়, বরং এটি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের নতুন বাণিজ্য নীতির আওতায় বিভিন্ন দেশের ওপর সাধারণ শুল্কের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই হার অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, “মার্কিন এই পাল্টা শুল্কের বিষয়টি কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, এটি তাদের বৈশ্বিক নীতির অংশ। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের ওপর সব থেকে কম শুল্ক আরোপ করেছে, বাংলাদেশ সেই তালিকার অন্যতম।”
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসারে সরকারের তৎপরতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে। তারা বাংলাদেশের অবকাঠামো ও ‘ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ খাতে বড় আকারের বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিনিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও নির্দিষ্ট করতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে দুটি বিশেষ ‘টাস্কফোর্স’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি সচল করার মাধ্যমে কাঁচামাল পরিবহন ব্যয় কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের বিনিয়োগ প্রস্তাবের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে তাদের পরামর্শগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
দেশের বর্তমান বাণিজ্যঘাটতি ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ রপ্তানির চেয়ে বেশি, যা বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক চিত্র। তবে তিনি রপ্তানি ভলিউম বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ভিয়েতনামের উদাহরণ টানেন। মন্ত্রী বলেন, “ভিয়েতনামের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের পরিমাণ ৬০০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। আমাদের অর্থনীতির বর্তমান আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্যের এই পরিধি আরও বাড়াতে হবে।”
এর আগে সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিসিক-এর উদ্যোগে একটি ‘ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার’ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। সেখানে তিনি জাতীয় অর্থনীতিতে সিএমএসএমই (CMSME) খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে এই খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ, যাকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। শিল্প খাতের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌরশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এবং ‘স্টোরেজ’ সুবিধা বাড়ানো গেলে ‘পিক আওয়ার’-এ লোডশেডিংয়ের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের সঙ্গে সভায় মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দেন। পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধী যে দলের বা মতেরই হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মন্ত্রী দক্ষিণ সুরমার শাহপরান (রহ.) বাইপাস এলাকায় প্রস্তাবিত ‘বিসিক-৩’ শিল্পনগরীর জমিও পরিদর্শন করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।