অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৪১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা: ১৭ ব্যাংকের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের চুক্তি

 দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সচল করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন প্যাকেজ বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিল জোগান দিতে নতুন করে ১০টি ব্যাংক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। গত বৃহস্পতিবার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে মোট ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রাক্‌-অর্থায়ন ও পুনঃ অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ। চুক্তি স্বাক্ষরকারী দ্বিতীয় ধাপের ১০টি ব্যাংক হলো—অগ্রণী, রূপালী, যমুনা, মার্কেন্টাইল, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, এনসিসি, প্রাইম, সাউথইস্ট, ট্রাস্ট ও উত্তরা ব্যাংক। এর আগে ২০ আগস্ট প্রথম ধাপে সোনালী ব্যাংকসহ আরও ৭টি ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর করেছিল।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজটির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাংকিং খাতের তারল্যকে উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সাশ্রয়ী ঋণের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা। এই ৪১ হাজার কোটি টাকার বড় একটি অংশ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, এবং উত্তরবঙ্গের কৃষি হাব ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতে ৩ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।


ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, “বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অলস উদ্বৃত্ত তারল্যকে যদি সঠিক ও উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা যায়, তবে এটি কেবল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে না, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।” তিনি ব্যাংকগুলোকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অত্যন্ত সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে শিল্পায়ন পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।