দেশের বাজারে আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে বিলাসজাত পণ্য সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের অস্থিরতা এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আবারও মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই সারাদেশে নতুন এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে। বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। আগের দরের তুলনায় ভরি প্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে যারা সামনের বিয়ের মৌসুম বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ‘বাজেট’ নতুন করে সাজাতে হবে।
২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ১ হাজার ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হবে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গোল্ডপ্রাইস ডটঅর্গ-এর পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার আউন্স প্রতি সোনার দাম ৩৭ ডলার বাড়লেও মাসের ব্যবধানে তা এখনও ১৭২ ডলার কম রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারে ডলারের সংকট ও অভ্যন্তরীণ চাহিদাই মূলত এই দর বৃদ্ধির প্রধান ‘ড্রাইভার’ হিসেবে কাজ করছে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সোনা কেনাবেচার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে মোট মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হলেও এখন থেকে প্রতি ভরি গয়নার মূল্যের সাথে নির্দিষ্ট ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে ক্রেতাদের আর আলাদা করে ভ্যাটের হিসাব করতে হবে না; প্রদর্শিত দামের মধ্যেই তা সমন্বয় করা হয়েছে। সোনার বাজারে এমন উত্তাপ বিরাজ করলেও রুপার দাম আপাতত অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৪ হাজার ৬০৭ টাকাতেই স্থিতিশীল রয়েছে, যা সাধারণ অলঙ্কার ক্রেতাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির সংবাদ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।