১০০ টাকার রিচার্জে ৩৮ টাকা কর? মোবাইল গ্রাহকদের জন্য বড় সুখবর দিলেন আইসিটি উপদেষ্টা

বাংলাদেশের ১৮ কোটিরও বেশি মোবাইল সিম গ্রাহকের জন্য দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত রিচার্জ কর। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি লাঘবে এবার বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। মোবাইল ফোনে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ৩৮ টাকা কর বাবদ কেটে নেওয়াকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে অভিহিত করে তা কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘টেলিকম পলিসি’ বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন, “দেশের সাধারণ এবং নিম্নবিত্ত মানুষের কাছ থেকে ১০০ টাকা রিচার্জে সরাসরি ৩৮ টাকা কর কেটে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি এবং টেলিকম সেবায় আরোপিত এই বিশাল ট্যাক্স ও ভ্যাট কমানোর জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।” তিনি আরও স্বীকার করেন যে, গ্রাহকরা চড়া মূল্যে ডাটা বা টকটাইম কিনলেও সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্টি রয়ে গেছে। প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার পথে এটি একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবেও তিনি মন্তব্য করেন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছিল। এর সাথে ১৮ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ সারচার্জ যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছরের জানুয়ারিতে সম্পূরক শুল্ক আরও ৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে ২৩ শতাংশে উন্নীত করে। এর ফলে বর্তমানে ১০০ টাকা রিচার্জে সব ধরনের ফি ও কর মিলিয়ে গ্রাহককে ৫৬ টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

সরকারের এই নতুন উদ্যোগ কেবল কর কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষকে ফাইভজি (5G) সেবার আওতায় নিয়ে আসার বিশাল পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরের ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিচার্জে কর কমানোর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা দেশের তৃণমূল পর্যায়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল করবে। এখন সবার নজর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদক্ষেপের দিকে, যা চূড়ান্তভাবে সাধারণ গ্রাহকের পকেটে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।