কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেএসসি ও সমমানের বৃত্তি পরীক্ষায় এমন এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে, যা নিয়ে পুরো জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। আসিয়া বারি আদর্শ বিদ্যালয় নামক এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মেধার দ্যুতি এবং অভাবনীয় পরিসংখ্যান এখন সবার মুখে মুখে। বুধবার প্রকাশিত জেএসসি ও সমমান বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এই বিদ্যালয়টি মেধা তালিকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর আসিয়া বারি আদর্শ বিদ্যালয় থেকে মোট ৩০ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জনই বৃত্তি লাভের গৌরব অর্জন করেছে। মেধার এই লড়াইয়ে ১৩ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ সম্মান ‘ট্যালেন্টপুল’ বা মেধাবৃত্তি পেয়েছে এবং ১৬ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। অর্থাৎ মাত্র একজন শিক্ষার্থী বাদে ক্লাসের প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীই সরকারি এই মেধা তালিকায় নিজেদের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছে।
এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও এই ফলাফল নিয়ে ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম এই অভাবনীয় অর্জনের পেছনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কেবল পাঠ্যবইয়ের গতানুগতিক পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তাঁরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ যত্ন বা ‘পার্সোনাল কেয়ার’ নিশ্চিত করেছিলেন।
সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “আমরা নিয়মিত ‘হোম ভিজিট’ করেছি এবং স্কুল ছুটির পর পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘আফটার স্কুল কেয়ার’ বা বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। এই ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষকমণ্ডলী, ছাত্র-ছাত্রীদের হাড়ভাঙা পরিশ্রম এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সম্মিলিত ও সুপরিকল্পিত প্রয়াস সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।” বিদ্যালয়ের এই সাফল্যের ধারা যেন আগামীতেও অব্যাহত থাকে, সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ের একটি স্কুলের এমন অর্জন দেশের অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।