দেশে মরণঘাতী হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসের প্রকোপে আরও ৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃত শিশুদের মধ্যে ৩ জনের শরীরে সরাসরি হামের ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল এবং বাকি ৬ জন হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারায়।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ৯টি মৃত্যুর মধ্যে ৫টিই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। হাম শনাক্ত হয়ে যে ৩ শিশু মারা গেছে, তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছে রাজধানীতে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৬ শিশু; যাদের মধ্যে বরিশালে ২ জন, ঢাকায় ২ জন, রাজশাহীতে ১ জন এবং সিলেটে ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের বিস্তার কেবল মৃত্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ২৭৬টি শিশুর শরীরে হামের প্রাথমিক লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক আক্রান্ত শিশুর তথ্য পাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণের ধারাটি পর্যালোচনা করলে একটি ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। গত দেড় মাসে হামের উপসর্গে দেশে মোট ২২৬টি শিশুর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর পাশাপাশি ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম পজিটিভ হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরও ৪৭টি শিশু। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে এই স্বল্প সময়ে হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় মোট ২৭৩টি শিশু অকালমৃত্যুর শিকার হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৪ হাজার ৬৬২টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৩ হাজার ৩৪৮টি শিশুকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে আশার কথা এই যে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেয়ে ১৯ হাজার ৯৯১টি শিশু সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যেই হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে। এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৪ হাজার ৮৫৬ জন শিশুর শরীরে সরাসরি হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকিও বেশি। শিশুদের মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। একই সাথে টিকাদান কর্মসূচির বা ভ্যাক্সিনেশনের গুরুত্বের ওপর আবারও জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।