যৌথ বাহিনীর বেশে মহাসড়কে ত্রাস: কুখ্যাত ডাকাত ‘মোটা আলামিন’ ও তার সহযোগী আটক

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের হ্যান্ডক্যাপ, ওয়াকিটকি এবং র‍্যাবের পোশাক ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। র‍্যাব, পুলিশ এমনকি কখনও যৌথ বাহিনীর পরিচয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া এই চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর ডেমরা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন এবং তাঁর সহযোগী গাড়িচালক মো. রায়হান। গ্রেফতারের সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড তাজা গুলি, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস এবং দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তাঁদের দখলে থাকা ছয়টি র‍্যাবের জ্যাকেট, দুটি হ্যান্ডক্যাপ, একটি ওয়াকিটকি সেট, ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকার, লেজার লাইট, পুলিশ বাটন, সেনাবাহিনীর আদলে তৈরি মাস্ক ও দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডেমরা থানার আমান মার্কেট ও মেন্দিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে আলামিনকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ রায়হানকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, এই চক্রটি মূলত গভীর রাতে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ও সরঞ্জামের আড়ালে তাঁরা নিয়মিত তল্লাশির অভিনয় করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে আসছিল। চক্রের হোতা আলামিন একজন পেশাদার অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জ এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা লুটের ঘটনায় তিনি প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে (উৎস অনুযায়ী) তিনি একবার গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হন। অন্যদিকে রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাতির রুট নির্ধারণ ও পলায়নের পরিকল্পনা সাজাতে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।

উদ্ধার হওয়া হ্যান্ডক্যাপের বিষয়ে উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, "প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এগুলো পুলিশের ব্যবহৃত হ্যান্ডক্যাপ। ধারণা করা হচ্ছে, গত ৫ আগস্টের বিশৃঙ্খলার সময় কোনো থানা থেকে এগুলো লুট করা হয়েছিল। তবে নির্দিষ্ট কোন থানা থেকে এগুলো খোয়া গেছে, তা তদন্তাধীন।"

সাধারণ মানুষ কীভাবে আসল ও ভুয়া র‍্যাবের পার্থক্য বুঝবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, "র‍্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে অবশ্যই তাঁদের গায়ে নির্দিষ্ট ‘কটি’ বা জ্যাকেট থাকে। এটি প্রথম শনাক্তকারী চিহ্ন। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেক সদস্যের কাছে হলোগ্রামযুক্ত কিউআর কোড সংবলিত আইডি কার্ড থাকে। জনসাধারণ চাইলে যে কোনো অভিযানে র‍্যাব সদস্যদের পরিচয় যাচাই করতে পারেন। আমাদের সদস্যদের প্রতিও নির্দেশনা রয়েছে যে, কেউ পরিচয় জানতে চাইলে তা বিনয়ের সাথে উপস্থাপন করতে হবে।"

সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ২৪ ঘণ্টা এই তালিকা নবায়নের কাজ চলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অপরাধ করা এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও র‍্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া