রামুতে ইয়াবার বিশাল চালানসহ আটক পুলিশ সদস্য, নেপথ্যে বড় কোনো সিন্ডিকেট?

মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যখন জিরো টলারেন্স নীতি চলছে, ঠিক তখনই খোদ এক পুলিশ সদস্যের মাদক পাচারের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এবার ২০ হাজার পিস ইয়াবার এক বিশাল চালানসহ ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) কর্মরত এক পুলিশ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।


গতকাল শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মরিচ্যা চেকপোস্ট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। রক্ষক হয়ে খোদ পুলিশ সদস্যের এমন মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝেও বিস্ময় তৈরি হয়েছে।


বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক পাচারের একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য আগে থেকেই জানতে পেরেছিল ৩০ বিজিবির রামু ব্যাটালিয়ন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মরিচ্যা চেকপোস্টে কড়া তল্লাশি বা ‘সার্চ অপারেশন’ শুরু করেন বিজিবি সদস্যরা। তল্লাশির একপর্যায়ে ৮ এপিবিএনে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল সজিব বেপারীর কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালালে বেরিয়ে আসে ২০ হাজার পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট। বিপুল পরিমাণ এই মাদকদ্রব্যসহ তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয় বিজিবি।


আটক কনস্টেবল সজিব বেপারীর বিষয়ে মুখ খুলেছেন ৮ এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার (সিও) রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কনস্টেবল সজিব গত বৃহস্পতিবার নিজ কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়েছিলেন। এরপরই তিনি ক্যাম্প ত্যাগ করেন। তার নিজ জেলার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ছুটিতে গিয়ে একজন দায়িত্বশীল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কীভাবে এমন ভয়ংকর মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন, সেই বিষয়টি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ‘ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন’ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে, এই সফল অভিযানের বিষয়ে ৩০ বিজিবির (রামু ব্যাটালিয়ন) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, আটক হওয়া ওই পুলিশ সদস্যকে বর্তমানে নিজেদের হেফাজতে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি এই ইয়াবার চালান কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং কোথায় ডেলিভারি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল-তা জানার চেষ্টা চলছে। সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া বা ‘লিগ্যাল প্রসিডিউর’ শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।