দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সিলেট সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: উৎসবের আমেজে আধ্যাত্মিক রাজধানী

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো পুণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২ মে) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেটে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। আধ্যাত্মিক এই রাজধানীতে মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি তাঁর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন। এরপর সকাল ১১টায় সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নগরীর ঐতিহ্যবাহী চাঁদনীঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সিলেটবাসীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

দুপুরের কর্মসূচিতে রয়েছে মাঠ পর্যায়ের তদারকি। দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ে অবস্থিত বাসিয়া খাল খননকাজের উদ্বোধন করবেন। মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রামের পর বিকেল ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করবেন তিনি। ক্রীড়া ক্ষেত্রে তৃণমূলের প্রতিভা অন্বেষণে এই আয়োজনটি অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর বিকেল ৫টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক দলীয় সভায় অংশগ্রহণ করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনভর একগুচ্ছ কর্মসূচি শেষে আজ সন্ধ্যা ৭টায় তাঁর আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই হাই-প্রোফাইল সফরকে ঘিরে পুরো সিলেট মহানগরীকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সড়কের ডিভাইডার, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও স্থাপনাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ করা হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে এবং নগরীর প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে বিশেষ ‘চেকপোস্ট’। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, আড়ম্বরপূর্ণ আলোকসজ্জার পরিবর্তে এবার পরিচ্ছন্নতা ও মার্জিত সৌন্দর্যবর্ধনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই সফর নিয়ে বইছে আনন্দের হাওয়া। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী তাঁর প্রতিক্রিয়ায় জানান, সিলেট দীর্ঘকাল ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং নতুন শিল্পায়নের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সিলেটের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি বড় মাইলফলক। তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি সরাসরি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন, যা আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।" সাধারণ নাগরিকরা প্রত্যাশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সিলেটের জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া