গণমাধ্যম ও সরকারের সম্পর্ক নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমানের তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যম ও সরকারের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন এক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য: কে শিকার? কে শিকারি?’ শীর্ষক এক বিশেষ সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একটি জনবান্ধব ও গণতান্ত্রিক সরকার কখনোই গণমাধ্যমের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা অর্জন করতে পারে না। বরং গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক এবং ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারের যে কোনো কার্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার গণমাধ্যমের রয়েছে এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। তবে এই সমালোচনার আড়ালে মিথ্যা তথ্য বা ‘ফেক নিউজ’ প্রচারের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

অপতথ্য ও গুজবের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে অপতথ্য ছড়ানোকে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাঁর মতে, গুজব রোধে সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা. জাহেদ উর রহমান সমালোচনা ও গালিগালাজকে অপতথ্য থেকে আলাদা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা সমালোচনা এক বিষয়, কিন্তু সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে একটি কঠোর ও সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহের মধ্যে সত্যতা যাচাইয়ের যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সংবাদকর্মীদের আরও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে উক্ত সেমিনারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপতথ্য ও গুজব সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সেমিনারের আলোচনায় উঠে আসে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া