এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে বদলি প্রক্রিয়ার তথ্য সংগ্রহ!

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে বদলি প্রক্রিয়ার তথ্য সংগ্রহ!

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ও প্রত্যাশা পূরণে এক বিশাল প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে সম্প্রতি ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬’ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষকদের কর্মস্থল পরিবর্তনের এক আধুনিক ও স্বচ্ছ দ্বার উন্মোচিত হলো।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এই ডিজিটাল বদলি কার্যক্রমকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরির কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য বা ‘ডেটা’ সংগ্রহের কাজ শুরু করার একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যদিও গত সপ্তাহে সফটওয়্যারের ‘ডেমো’ বা পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল, তবে কিছু কারিগরি ও কৌশলগত কারণে তা সামান্য পিছিয়ে গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি সপ্তাহেই এই সফটওয়্যারের পুনর্মার্জিত ডেমো দেখে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে বলে দৃঢ় আশা ব্যক্ত করেছে মাউশি।

প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এনটিআরসিএ-এর (NTRCA) সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলি হওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ছিল না। ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা কেবল নতুন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন নিয়োগ নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের চেষ্টা করতেন, যা চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে মন্ত্রণালয় বন্ধ করে দেয়। এরপর শিক্ষকদের তীব্র আন্দোলন এবং অধিকার আদায়ের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এই যুগান্তকারী বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করে। আইনি জটিলতা, রিট পিটিশন এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে অবশেষে এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিটি আলোর মুখ দেখছে।

মাউশির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফটওয়্যারের ডেমো প্রদর্শনী শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘সবুজ সংকেত’ বা গ্রিন সিগন্যাল পেলেই দ্রুততার সাথে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি বা ‘সার্কুলার’ জারি করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো প্রকার তদবির বা অনিয়ম ছাড়াই যোগ্য শিক্ষকরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত এলাকায় বদলি হতে পারবেন। ডিজিটাল এই উদ্ভাবন বেসরকারি শিক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার আনবে এবং শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।