আট মামলায় জামিন পেলেও মিলল না মুক্তি; নবম মামলায় গ্রেফতার সাবেক প্রধান বিচারপতি

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের কারামুক্তি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। একে একে আটটি মামলায় উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও তাঁর মুক্তি আটকে গেল নতুন একটি মামলার কারণে। বুধবার (৮ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত বনানী থানার একটি হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে কারাগার থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় থাকা সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে পুনরায় আইনি বেড়াজালে বন্দী হতে হলো।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে সশরীরে আদালতে হাজির করা হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে কারাগার থেকে ‘ভার্চুয়ালি’ উপস্থিত দেখিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে এই নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, খায়রুল হকের আইনজীবীরা এই মামলায় তাঁর জামিনের জন্য আবেদন করেছেন, যার শুনানি পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সাবেক প্রধান বিচারপতির আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহিন এই ধারাবাহিক গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "এটি একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি। যখনই তিনি কোনো মামলায় জামিন পান, তখনই অন্য একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আজ এটি তাঁর বিরুদ্ধে নবম মামলা। আমরা আক্ষেপ করে বলতে পারি, সম্ভবত আমরা মামলার সেঞ্চুরি পূরণের অপেক্ষায় আছি। এভাবে একের পর এক মামলায় জড়ানোয় তাঁর মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে।"

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে এবিএম খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই তিনি কারাবরণ করছেন। শুরুতে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও পর্যায়ক্রমে মামলার সংখ্যা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গত ৩০ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জামিনের রেশ কাটতে না কাটতেই বনানী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম তাঁকে নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন।

নতুন এই মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’ চলাকালে মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এই ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়াসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। আইনি লড়াইয়ের এই দীর্ঘ পথচলায় সাবেক প্রধান বিচারপতির মুক্তি শেষ পর্যন্ত কবে নাগাদ সম্ভব হবে, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।