স্কটল্যান্ডের চোখধাঁধাঁ আয়োজনে গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ গেমসের মহারণে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বের মোট ৭৪টি দেশের কয়েক হাজার ক্রীড়াবিদ এই আসরে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছেন। প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস এবং বক্সিং—এই চারটি প্রধান ডিসিপ্লিনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে মাঠে নেমেছে। আসরের কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর অনেক ইভেন্ট থেকেই লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা বিদায়ের পথ ধরলেও, বক্সিং রিং থেকে ভেসে আসছে নতুন আশার গুঞ্জরণ।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে কমনওয়েলথ গেমস মানেই ছিল শুটিং থেকে পদক জয়ের নিশ্চিত ‘প্যাকেজ’। কিন্তু এবার শুটিং ইভেন্টটি না থাকায় এক ধরণের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই শূন্যতা পূরণ করে সাফল্যের আলো ছড়াচ্ছেন বক্সার রাকিব হোসেন। ৫৫ কেজি ওজন শ্রেণিতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি ইতিমধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছেন। প্রথম ম্যাচে সলোমন আইল্যান্ড এবং পরবর্তীতে পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে রিংয়ে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি। আগামীকাল কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বক্সারের মুখোমুখি হবেন রাকিব। এই ম্যাচে জয়ী হতে পারলেই বাংলাদেশের জন্য অন্তত একটি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত হবে, যা হবে দীর্ঘদিনের খরা কাটানোর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। রাকিব ছাড়াও বক্সিংয়ে লড়ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নারী বক্সার জিনাত ফেরদৌস এবং রুহিন রেজা।
এদিকে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকেও আজ বড় পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে বাংলাদেশ। ৯ নম্বর হিটে দেশসেরা স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান এবং ৭ নম্বর হিটে শিরিন আক্তার নিজেদের গতি দিয়ে বিশ্বমঞ্চে ছাপ ফেলার চেষ্টা করবেন। সাঁতারের পুলে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন সামিউল ইসলাম (৫০ মিটার ব্যাক স্ট্রোক ও বাটার ফ্লাই), কাজল মিয়া (২০০ মিটার বাটার ফ্লাই ও ৪০০ মিটার ফ্রি স্টাইল), সুকুমার রাজবংশী এবং সোনিয়া আক্তার। জিমন্যাস্টিকস ফ্লোরে নিজেদের শৈলী প্রদর্শন করছেন রাজিব চাকমা, আবু সাঈদ এবং শিশির আহমেদ।
যদিও অনেক অ্যাথলেট ইতিমধ্যে ছিটকে গেছেন, তবুও বক্সিংকে ঘিরে পুরো বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা এখন এক বড় ধরণের ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক অর্জনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। নীতিনির্ধারকদের মতে, শুটিং বিহীন এই আসরে বক্সিং থেকে পদক জয় করতে পারলে তা বাংলাদেশের ক্রীড়া মানচিত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। পুরো জাতির নজর এখন স্কটল্যান্ডের রিংয়ের দিকে, যেখানে রাকিব হোসেনের পাঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে ১৬ কোটি মানুষ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।