২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রুদ্ধশ্বাস উত্তজনা আর মাঠের লড়াই শেষে নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার নিভৃত শহর পুজাতোতে ব্যক্তিগত ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি। গত পাঁচ দিন সেখানে অবস্থানকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতা ও মাস্টারমাইন্ডকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন তাঁর পৈতৃক ভিটার সামনে ভিড় জমিয়েছেন শত শত অনুরাগী। মাত্র তিন হাজার অধিবাসীর এই শান্ত জনপদ স্কালোনির উপস্থিতিতে এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে গত শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে জন্মস্থান ত্যাগ করেছেন এই আর্জেন্টাইন সেনাপতি।
স্কালোনির এই প্রস্থান ছিল অনেকটা তাঁর ফুটবলীয় রণকৌশলের মতোই নিখুঁত ও আকস্মিক। কাউকে কিছু না জানিয়ে শহর ছাড়ার আগে তিনি এক বিচিত্র অথচ সম্মানজনক উপায় বেছে নিয়েছেন। ভক্তরা যেন পরদিন সকালে এসে হতাশ হয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা না করেন, সেজন্য তিনি তাঁর বাবা-মায়ের বাড়ির প্রধান ফটকে একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট সাঁটিয়ে দেন। পুজাতোর স্থানীয় গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ২’ এই চিরকুটটির ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করার পর তা মুহূর্তে ‘স্মার্টফোন’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেখানে তিনি নিজের হাতে লিখে যান, ‘লিও (স্কালোনি) গত রাতে চলে গেছেন! আপনাদের অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।’
পুজাতোতে কাটানো এই কয়েক দিনে স্কালোনি আক্ষরিক অর্থেই এক অন্যরকম জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভেসেছেন। সাধারণ মানুষ কেবল তাঁকে দূর থেকে দেখা নয়, বরং তাঁর সাথে সেলফি তোলা এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। তিনি সবার আবদার হাসিমুখে মিটিয়েছেন ঠিকই, তবে শেষ বেলায় জৌলুসময় বিদায় সংবর্ধনার চেয়ে নিরিবিলি প্রস্থানকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।
স্কালোনির বর্তমান গন্তব্য নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া না গেলেও, ফুটবল সংশ্লিষ্টদের ধারণা তিনি বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের সান্নিধ্যে সময় কাটাতে স্পেনের মায়োর্কায় পাড়ি জমিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ পারিবারিক আবহে সময় কাটাবেন বলে জানা গেছে। এরপরই পুনরায় শুরু হবে তাঁর পরবর্তী ‘মিশন’, যখন আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে আবারও আর্জেন্টিনার ডাগআউটে রণকৌশল সাজাতে দেখা যাবে এই কিংবদন্তি কোচকে। জন্মস্থানের মায়া কাটিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের পথে স্কালোনির এই গোপন প্রস্থান ফুটবল বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।