বিশ্বকাপ ফাইনালে কি সত্যিই ‘কিছু ঘটেছিল’? গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের কড়া জবাব দিল আর্জেন্টিনা

ফুটবলের মহোৎসবে জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আর্জেন্টিনাকে ঘিরে গত এক মাস ধরে যে রহস্যের জাল বোনা হচ্ছিল, তা নিয়ে অবশেষে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। গত মাসে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে একটি রহস্যময় কথা চাউর হয়েছিল— ‘কিছু একটা ঘটেছিল!’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন তোলা হয়, যা এক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের রূপ নেয়।

গতকাল সেই আলোচিত ফাইনালের এক মাস পূর্ণ হলো। এই উপলক্ষকে সামনে রেখেই এএফএ তাদের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিও বার্তা পোস্ট করে। ভিডিওটিতে পরাজয়ের গ্লানি ভুলে খেলোয়াড়দের সাহসিকতাকে সম্মান জানানো হয় এবং স্পষ্টভাবে ‘কখনো হাল ছেড়ো না’ (নেভার গিভ আপ) বার্তাটি প্রচার করা হয়।

ভিডিওর নেপথ্য ধারাভাষ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, ‘ঠিক এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই হয়তো চাননি সেটি ঘটুক, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। আমরা আরেকটি ফাইনাল খেলেছি, যা অনেকে হয়তো এখন এড়িয়ে যেতে চাইছেন। প্রতিটি ম্যাচে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি এবং ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছি।’

ফাইনাল-পরবর্তী নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ে এএফএ-র অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী নানাবিধ প্রোপাগান্ডা সত্ত্বেও আমরা সফলভাবে ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। এখন কেউ যখন প্রশ্ন তুলবে—কিছু একটা ঘটেছিল কি না, তখন দ্ব্যর্থহীনভাবে বলবেন, হ্যাঁ। যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য তাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করেছিল। তারা সব উজাড় করে দিয়েছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সব জেতার পর এই দফায় তাদের হারের স্বাদ নিতে হয়েছে।’

ভিডিওর একপর্যায়ে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রানার্সআপ মেডেল গ্রহণের সময় অধিনায়ক লিওনেল মেসির অশ্রুসিক্ত নয়ন ফুটে ওঠে। সেই বিষাদময় মুহূর্তটি উল্লেখ করে ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘অধিনায়কের সেই কান্না আমাদের শিখিয়েছে যে, জয় বা পরাজয় যা-ই আসুক, হাল ছাড়া যাবে না।’

এদিকে এই ইস্যু নিয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি ফাইনাল-পরবর্তী বিতর্ককে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাপিয়ার অভিযোগ, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই ফাইনালের পর একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল যে, আর্জেন্টিনা দল ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচটি ছেড়ে দিয়েছে।

ক্ষুব্ধ তাপিয়া বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, এক মাস পার হয়ে গেলেও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো সেসব সংবাদমাধ্যম বা ব্যক্তিরা আজও ক্ষমা চায়নি। তাদের কেউ সামনে এসে স্বীকার করেনি যে তারা ভুল ছিল। কারও মধ্যে সেই সততা বা দায় নেওয়ার সাহসটুকু নেই।’

নিজের পোস্টে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা যখন দেশের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন বাইরের কিছু মানুষ ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর কাজে লিপ্ত ছিল। কোটি মানুষের ভালোবাসা পাওয়া একটি জাতীয় দলের গরিমা নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।’ তাপিয়া কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় দলের ফুটবলারদের যারা দেশদ্রোহী বলার স্পর্ধা দেখিয়েছে, তাদের অবশ্যই এই মিথ্যার জবাবদিহি করতে হবে। যারা কোনো প্রমাণ ছাড়াই অভিযোগ তুলেছিল, দায় এখন তাদের।’

বার্তার শেষভাগে কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তাপিয়া স্পষ্ট করে দেন যে, যারা মাঠে লড়াই করেছে তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদেরই যারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।