আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই লাল কার্ড কি তবে ‘অবৈধ’? বিশ্বজয়ের পথে বড় এক সত্য ফাঁস করল আইএফএবি

২০২৬ বিশ্বকাপের সেই রুদ্ধশ্বাস কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে সেদিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি বিতর্কিত লাল কার্ড, যা কার্যত পাল্টে দিয়েছিল পুরো ম্যাচের গতিপথ। দীর্ঘ সময় পর ফুটবল বিশ্বের নিয়মপ্রণয়নকারী সর্বোচ্চ সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড’ (আইএফএবি) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে দেওয়া সেই লাল কার্ডটি ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। জুরিখভিত্তিক এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ফুটবল বিশ্বে নতুন করে তর্কের দাবানল জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কানসাস সিটির সেই স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ড যখন ১-১ সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরেছিল, ঠিক তখনই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আলবিসেলেস্তে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে মাঠে পড়ে যান এমবোলো। শুরুতে রেফারি পারেদেসকে ফাউলের দায়ে ‘হলুদ কার্ড’ দেখালেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ‘ভিএআর’ (VAR) কক্ষ থেকে ভিন্ন সংকেত আসে। ভিএআর কর্মকর্তারা দাবি করেন, কোনো ফাউল হয়নি বরং এমবোলো ‘সিমুলেশন’ বা অভিনয়ের আশ্রয় নিয়েছেন। এরপরই রেফারি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে পারেদেসের কার্ড বাতিল করেন এবং এমবোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা ‘লাল কার্ড’ দেখিয়ে মাঠ ছাড়া করেন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

আইএফএবি-র সাম্প্রতিক কারিগরি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ওইদিন ভিএআর ‘প্রটোকল’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি ভুল করা হয়েছিল। সংস্থাটির মতে, ভিএআর-এর ‘ভুল শনাক্তকরণ’ (Mistaken Identity) ধারাটি কেবল তখনই ব্যবহার করা যায়, যখন রেফারি ভুল কোনো খেলোয়াড়কে দণ্ড দেন। কিন্তু অপরাধের ধরণ পরিবর্তন করা কিংবা কাউকে অভিনয়ের জন্য শাস্তি দিতে এই বিশেষ ধারা ব্যবহারের কোনো এক্তিয়ার বর্তমানে কোনো রেফারির নেই। এটি সরাসরি ফিফার বিদ্যমান নীতিমালার পরিপন্থী। আইএফএবি স্পষ্ট করেছে যে, পর্যালোচনার চূড়ান্ত ধাপ শেষ হওয়ার আগে এমন বিধিবহির্ভূত প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে। এর আগে মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও অভিযোগ তুলেছিল যে, লিওনেল মেসির দলকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে রেফারিরা বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন। সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন সেই সময় তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, “এটি কেবল একটি ভুল নয়, এটি আমাদের পুরো স্বপ্নকে ধ্বংস করে দেওয়ার শামিল। ফিফা তাঁদের রেফারিদের রক্ষা করার চেষ্টা করলেও সত্য হলো আমরা অন্যায়ের শিকার হয়েছি।”

বর্তমানে ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘ভিএআর’ প্রটোকলের একটি দীর্ঘমেয়াদী পর্যালোচনা চলমান রয়েছে। এমবোলোর এই ঘটনার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখন সেই পর্যালোচনার অন্যতম প্রধান উপজীব্য। আগামী ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক সাধারণ সভায় ফুটবলের এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন কোনো ‘ডেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সংস্কারের ঘোষণা আসতে পারে। তবে আপাতত আইএফএবি-র এই স্বীকারোক্তি সুইজারল্যান্ডের ক্ষত নিরাময় করতে না পারলেও, ফুটবলের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।