লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙলেন ইসরায়েলি সেনা: ভিডিও ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই এক নজিরবিহীন ও চরম অবমাননাকর ঘটনার সাক্ষী হলো দক্ষিণ লেবানন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন ইসরায়েলি সেনা অত্যন্ত নৃশংসভাবে হাতুড়ি (জ্যাকহ্যামার) ব্যবহার করে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তির মাথা ভেঙে ফেলছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

দক্ষিণ লেবাননের দেইর সিরিয়ান শহরে এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়। ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, ইউনিফর্ম পরিহিত ওই সেনা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে মূর্তির ওপর আঘাত হানছে। ঘটনার তীব্রতা এতটাই যে, খোদ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (IDF) এই নক্কারজনক কাজের সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামো বা ধর্মীয় প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য তাদের নেই এবং বিষয়টি নিয়ে তাদের ‘নর্দান কমান্ড’ তদন্ত শুরু করেছে। তবে অভিযুক্ত সেনার পরিচয় বা তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তেল আবিব।

এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘যে দেশটি মার্কিন করদাতাদের অর্থে শত শত কোটি ডলারের অস্ত্র ও সহায়তা পায়, আমাদের সেই সবচেয়ে বড় মিত্রের এমন বিতর্কিত ভূমিকা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।’ অন্যদিকে, বিশিষ্ট মার্কিন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক রায়ান গ্রিম অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনারা দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধাপরাধ এবং সাংস্কৃতিক নিদর্শনের অবমাননার ছবি ও ভিডিও ধারাবাহিকভাবে পোস্ট করে আসছে। কট্টর-ডানপন্থী ভাষ্যকার ম্যাট গেটজ এই পদক্ষেপকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন।

লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ধর্মীয় নিদর্শনে আঘাতের ঘটনা কেবল দেইর সিরিয়ান শহরটিতেই সীমাবদ্ধ নয়। একই জেলার আইন এবেল গ্রামেও একটি প্রাচীন খ্রিস্টান স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া টায়ার জেলার শামা গ্রামসহ দক্ষিণ লেবাননের বেশ কয়েকটি ধর্মীয় স্থান ইসরায়েলি হামলায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসন এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে এখন পর্যন্ত দুই হাজার ২৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু বা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বেসামরিক লোকালয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।