ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় ফের ধস! কেন পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গুরুতর ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ও প্রশাসনিক তদন্তের মুখে সোমবার (২০ এপ্রিল) পদত্যাগ করেছেন দেশটির শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডেরেমা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ—অফিসের তরুণী নারী কর্মীদের সঙ্গে চরম অপেশাদার ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ করেছেন তিনি। কেবল আচরণগত সমস্যাই নয়, শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভেতরে আরও একাধিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দানা বেঁধেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চুং অবশ্য বিষয়টিকে কিছুটা নমনীয়ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডেরেমা প্রশাসন ছেড়ে ‘প্রাইভেট সেক্টর’ বা বেসরকারি খাতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা এবং শ্রম আইনের সংস্কারে লরি অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পদত্যাগের পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লরি শ্যাভেজ-ডেরেমা নিজেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আমেরিকান শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লরির এই বিদায় ট্রাম্পের ক্যাবিনেটে চলমান বিশৃঙ্খলারই বহিঃপ্রকাশ। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে লরি শ্যাভেজ-ডেরেমা হলেন তৃতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় নিলেন। এর আগে গত মার্চ মাসে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার অভিযোগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এরপর এপ্রিলের শুরুতেই চাঞ্চল্যকর ‘এপস্টাইন ফাইলস’ সামলানো এবং বিচার বিভাগ পরিচালনায় অযোগ্যতার দায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

লরি শ্যাভেজের এই আকস্মিক প্রস্থান ও একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির পারদ ঊর্ধ্বমুখী, ঠিক তখন নিজ প্রশাসনের অন্দরে এমন নৈতিক স্খলন ও অযোগ্যতার অভিযোগ হোয়াইট হাউসকে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।