মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণাঙ্গনের রেশ এবার সরাসরি ইরানের রাজপথে আছড়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান প্রধান শহরগুলো এখন যেন একেকটি বিশাল সমরাস্ত্র প্রদর্শনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তেহরানের একটি জনাকীর্ণ চত্বরে কয়েক’শ বাসিন্দা সমবেত হয়ে এক বিশাল সরকারপন্থী সমাবেশ করেন। সেখানে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হয় ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘গদর’ ক্ষেপণাস্ত্র। সমাবেশ থেকে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি উপস্থিত জনতা এই ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ইসরায়েলের তেল আবিবে নিক্ষেপের জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানায়।
একই রাতে তেহরানের অন্য একটি অংশে প্রদর্শিত হয়েছে ‘খোররামশাহর-৪’ নামক বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই প্রদর্শনীর একটি দিক বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে—ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে লাগানো একটি ছবিতে স্পষ্ট করে লেখা ছিল ‘লক্ষ্যবস্তু রাসগ্যাস’ (RasGas)। উল্লেখ্য, রাসগ্যাস মূলত কাতারের একটি প্রভাবশালী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখানোর বিষয়টি ওই অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের এই জোয়ার কেবল তেহরানেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের দক্ষিণে শিরাজ, উত্তর-পশ্চিমে তাবরিজ এবং মধ্যাঞ্চলের জানজান শহরেও একই ধরনের সমর-শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাধারণ মানুষকে এসব সমাবেশে অংশ নিতে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি চাপের মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক ধরনের ‘সাইকোলজিক্যাল’ বা মনস্তাত্ত্বিক বহিঃপ্রকাশ।
তবে এই সমাবেশগুলোর সময়জ্ঞান নিয়ে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন বিবিসি পার্সিয়ানের সংবাদদাতা ঘোনচে হাবিবিয়াজাদ। তিনি জানান, সরকারপন্থী এই কর্মসূচিগুলো সাধারণত গভীর রাতে আয়োজন করা হচ্ছে। এর পেছনে একটি কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে—গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলগুলো যেন রাতের বেলাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বিরোধী পক্ষগুলো কোনোভাবে জমায়েত হওয়ার সুযোগ না পায়। সব মিলিয়ে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের এই আস্ফালন ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।