ট্রাম্পের অবরোধ বনাম ইরানের মরণকামড়; ওয়াশিংটনকে ফাঁকি দিয়ে সমুদ্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শত শত জাহাজ!

বিশ্ববাণিজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) ইরান কর্তৃক ইউরোপীয় মালিকানাধীন দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ওয়াশিংটন এই ঘটনাকে ‘গুরুত্বহীন’ বলে প্রচার করার চেষ্টা করলেও, রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। পাল্টাপাল্টি অবরোধ আর হামলার আশঙ্কায় এখন স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা।

ইরানি সামরিক সূত্র ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বুধবার হরমুজ প্রণালিতে মোট তিনটি জাহাজে অতর্কিত হামলা চালায় তেহরান। এর মধ্যে দুটি জাহাজকে তারা নিজেদের জলসীমায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে—যুদ্ধের দুই মাস পার হওয়ার পরও এবং মার্কিন বাহিনীর প্রবল উপস্থিতির মুখেও ইরান তার ছোট অথচ ক্ষিপ্র গতির নৌযানগুলোর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সক্ষম। এটি মূলত পেন্টাগনের সেই দাবিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইরানের নৌবাহিনী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। তারা জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে মার্কিন নৌ-অবরোধ অতিক্রম করার চেষ্টা করা অন্তত ২৯টি জাহাজকে তারা সফলভাবে বাধা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়ে বলেছেন, ইরানের বন্দর ও জাহাজ বয়কট করার মার্কিন উদ্যোগ অচিরেই ‘বৈশ্বিক রূপ’ নিতে যাচ্ছে। তাঁর মতে, যারা ইরানের সাথে বাণিজ্য বজায় রাখবে, তাদেরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে খোদ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলোই সংশয় প্রকাশ করেছে। বিখ্যাত সামুদ্রিক সংবাদ সংস্থা ‘লয়েড’স লিস্ট’ (Lloyd’s List)-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সাথে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারসহ দুই ডজনেরও বেশি জাহাজ ওমান উপসাগরে মোতায়েন করা অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর নজরদারি এড়িয়ে নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। এই তথ্যটি ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা ও সামরিক সক্ষমতার জন্য এক বড় ধরনের অস্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে বিরাজমান এই সামরিক ও কূটনৈতিক ‘ডেডলক’ বা অচলাবস্থা কেবল দুই দেশের সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যদি খুব দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সামুদ্রিক উত্তেজনা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।