সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর আভিজাত্য ঘেরা পরিবেশে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে পা রেখেছিলেন তিনি। গত গ্রীষ্মের দলবদলে আর্জেন্টাইন ক্লাব রিভার প্লেট থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে যখন ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন, তখন ভাবা হয়েছিল তিনি হবেন ক্লাবের মাঝমাঠের আগামীর স্থপতি। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক এখন মাদ্রিদের ডাগআউটে যেন এক ‘অদৃশ্য’ চরিত্র। মাঠের লড়াইয়ে তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখার অপেক্ষায় থাকা ফুটবল বিশ্ব এখন দেখছে ডাগআউটে তাঁর নিঃশব্দ নির্বাসন।
রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে কিছুটা অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা সর্বশেষ ওসাসুনার বিপক্ষে ২-১ গোলের হারে আরও স্পষ্ট হয়েছে। মাঠের সেই সংকটে যখন দলের একটি গোল বড্ড প্রয়োজন ছিল, তখনও কোচ আলভারো আরবেলোয়া এই তরুণ তুর্কিকে মাঠে নামানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। জাবি আলোনসো কিংবা আরবেলোয়া—কারও ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা কৌশলগত ছকেই যেন ঠিক খাপ খাচ্ছেন না এই আর্জেন্টাইন প্লে-মেকার। পরিসংখ্যান বলছে, টানা তিন ম্যাচে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি, যা তাঁর মতো উদীয়মান তারকার ক্যারিয়ারের জন্য এক বড় ধাক্কা।
মাস্তানতুয়োনোর এই ক্লাব-সংকট এখন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনেই স্পেনের বিপক্ষে মর্যাদাপূর্ণ ‘ফিনালিসিমা’, এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপ। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে যিনি শুরুর একাদশে ছিলেন, তাঁর এমন করুণ দশা মানতে পারছেন না আর্জেন্টাইন ফুটবল কর্তারা। তাঁদের মতে, ছন্দে থাকা একজন খেলোয়াড় যদি ক্লাবে পর্যাপ্ত সময় না পান, তবে তাঁর স্বাভাবিক ধার হারিয়ে যেতে বাধ্য। সাবেক আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ও রিভার প্লেট কিংবদন্তি নরবার্তো আলোনসো রিয়াল মাদ্রিদের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সরাসরি বলেছেন, “ওরা ছেলেটাকে শেষ করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ও হয়তো কোনো ছোট দলেই হারিয়ে যাবে। রিয়ালে খেলার সুযোগ না দিলে ও নিজেকে প্রমাণ করবে কীভাবে?”
নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে মাত্র ৯ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন মাস্তানতুয়োনো। সেটাই ছিল রিয়ালের সাদা জার্সিতে তাঁর সর্বশেষ উপস্থিতি। ইনজুরি কাটিয়ে রদ্রিগোর ফেরা এবং কোচের নতুন চারজনের মাঝমাঠের ‘ফর্মুলা’ মাস্তানতুয়োনোর জন্য প্রথম একাদশের পথ আরও সংকুচিত করে দিয়েছে। অথচ গত জানুয়ারির দলবদলে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন নাপোলি তাঁকে ধারে নিতে চেয়েছিল, কিন্তু বার্নাব্যুতে লড়ে যাওয়ার জেদ নিয়ে তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এখন সেই সাহসী সিদ্ধান্তই কি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ফুটবল মহলে। ৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর এই বিশাল বিনিয়োগ কি শেষ পর্যন্ত বেঞ্চেই মরচে ধরবে, না কি আরবেলোয়ার কৌশলে নাটকীয় কোনো পরিবর্তন আসবে, তা বলে দেবে সময়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।