ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বেপরোয়া স্পিডে চালানো এক ট্রাকের তাণ্ডবে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। শুক্রবার (গতকাল) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সরু রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত গতিতে ট্রাক চালানোর ফলে অন্তত সাতজন পথচারী আহত হন। এরপর ক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে ওই ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়।
নিহত ট্রাকচালকের নাম মো. হান্নান (৪৫)। তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনায় ট্রাকে থাকা আরও দুজন ব্যক্তি জনতার তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে সালথা উপজেলার বালিয়া গুটির দিক থেকে একটি ট্রাক গ্রামের সরু সড়ক দিয়ে অত্যন্ত বেপরোয়া স্পিডে এগিয়ে আসছিল। অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে ট্রাকটির এমন ভয়ংকর গতি দেখে পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্যানিক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই স্পটে আসার আগে রসুলপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় একাধিক পথচারীকে চাপা দিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন ওই চালক।
পালিয়ে আসার একপর্যায়ে নগরকান্দার তালমার বিলনালিয়া নতুনহাটখোলা এলাকার একটি দোকানে ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয়। আর তখনই স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ট্রাকটির গতি রোধ করে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজিত জনতা ট্রাকচালক মো. হান্নানসহ ভেতরে থাকা তিনজনকে ধরে ব্যাপক গণপিটুনি দেন। এতে তাঁরা গুরুতর জখম হন। একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ট্রাকটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
গণপিটুনিতে আহত ট্রাকে থাকা বাকি দুজন হলেন—চালকের সহকারী (হেলপার) নাঈম (২২) এবং আল-আমিন (২৫)। এর মধ্যে নাঈমের বাড়ি সালথা উপজেলার সোনাখোলা গ্রামে এবং আল-আমিনের বাড়ি একই উপজেলার কাগদী এলাকায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালমা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নুরুল ইসলাম জানান, সালথার দিক থেকে আসা প্রচণ্ড গতির ওই ট্রাকটি নতুনহাটখোলা বাজারে একটি দোকানে আঘাত করার পরপরই উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে চালক নিহত হন।
এ বিষয়ে তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়েই আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। কিন্তু আমি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ট্রাকচালকসহ মোট তিনজনকে মারধর করে গুরুতরভাবে আহত করে ফেলে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।’
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ পুরো ঘটনার বিষয়ে জানান, ট্রাকের ধাক্কায় আহত পথচারী ও গণপিটুনির শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত চালকের মরদেহ পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করে পরবর্তীতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।