রান্নার গ্যাসে ফের অস্বস্তি; ১৯০০ টাকা ছাড়াল এলপিজির দাম, নতুন দর কার্যকর আজ থেকেই।

পবিত্র রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের তালিকায় যোগ হলো নতুন এক অস্বস্তি। দেশের বাজারে বেসরকারি খাতে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়িয়েছে সরকার। এবারের নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২১২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের বর্তমান দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকায়।

আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন এই নির্ধারিত মূল্য কার্যকর হবে।

বিইআরসি-র তথ্য অনুযায়ী, এবারের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতি কেজি এলপিজির দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬২ পয়সা। এর আগে চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতেই প্রতি কেজিতে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসাবে এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা করা হয়েছিল। গত মার্চ মাসে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল মাত্র ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কয়েক দফায় রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিইআরসি জানিয়েছে, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজভাড়া বা ফ্রেইট চার্জ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এছাড়া এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম নির্ধারণকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর ‘সৌদি কার্গো মূল্য’ (সিপি) ও ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৬১ টাকা ৬৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।

অন্যদিকে, পরিবহনে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের (Auto Gas) দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটো গ্যাসের দাম ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। তবে সরকারি কোম্পানির সরবরাহকৃত সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম পূর্বের ন্যায় ৮২৫ টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যদিও বাজারে এর সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত।

এদিকে, দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গৃহিণীরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকার ও বিইআরসি প্রতি মাসে দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দরের চেয়ে আরও বেশি টাকা নিচ্ছেন। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া