বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় দেশে তেলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি; পাম্প মালিকদের উল্লাস বনাম গ্রাহকের আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের মূল্যের অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় অবশেষে দেশের অভ্যন্তরে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রকারভেদে প্রতি লিটারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন এই দর গত রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকায়, যা আগে ছিল ১০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অকটেনের দাম; লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ টাকার অকটেন এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দাম বাড়লেও তেলের পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের চিরচেনা দীর্ঘ সারি কমেনি। তবে দামের এই বড় উল্লম্ফন নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মোটরসাইকেল চালক আকিব হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "জ্বালানির দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়লে হয়তো আমরা মানিয়ে নিতে পারতাম, কিন্তু এই বিশাল বৃদ্ধির ফলে গণপরিবহনের ভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে।"

এদিকে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত থাকার পরও কেন দাম বাড়ানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরহাদ নামের এক সচেতন ক্রেতা। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, "সম্প্রতি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশীয় মজুত নিয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন। তাহলে এখন অতিরিক্ত দামে তেল কিনে সাধারণ মানুষের পকেটের টাকা কোথায় যাচ্ছে? এতে কি কেবল মজুতদাররাই লাভবান হবে না?"

তবে সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারের সাথে দামের এই সমন্বয় না করলে তেল পাচার ও কৃত্রিম সংকটের ঝুঁকি থাকত। সমিতির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বলেন, "আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম বাড়ানোয় আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। এর ফলে বাজারে স্বচ্ছতা আসবে এবং মজুতদারির প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।"

উল্লেখ্য যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এর আগেও কয়েক দফায় ফার্নেস অয়েল এবং জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে খুব শীঘ্রই পরিবহন খাত ও উৎপাদন শিল্পে খরচ বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া