তারেক রহমান-আমির খসরুর সাথে বৈঠকের পর বড় দুঃসংবাদ; ঋণের অর্থ ছাড় নিয়ে আইএমএফের কড়া বার্তা

দেশের রাজস্ব ও ব্যাংক খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বিগত আওয়ামী লীগ ও পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতার দায় এখন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাঁধে এসে চেপেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বেঁধে দেওয়া কঠোর শর্তাবলি পূরণে বিগত দুই প্রশাসনের ধারাবাহিক অক্ষমতার কারণে এবার জুন প্রান্তিকের ঋণের কিস্তি স্থগিত করেছে সংস্থাটি। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে শুরুতেই এক কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাঠামোগত এবং বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করেছি যে, বর্তমানে একটি শক্তিশালী জনসমর্থন ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাই এখনই উচ্চাকাঙ্ক্ষী (Ambitious) সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণের মোক্ষম সময়। সরকার আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে শুনেছে, এখন দেখার বিষয় তারা মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন কীভাবে ঘটায়।’

আইএমএফের এই শীর্ষ কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে নিচের দিকে নেমেছে। যা দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাহিদা মেটানোর ন্যূনতম স্তরেরও নিচে। পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান, গত তিন বছরে রাজস্ব আহরণের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে রাজস্ব খাত ও আর্থিক খাতের আমূল পুনর্বাসনসহ মুদ্রা বিনিময় হার বা এক্সচেঞ্জ রেট সংস্কারে বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

তথ্যমতে, আইএমএফ সমর্থিত ৫৫০ কোটি ডলারের বিশাল ঋণ কর্মসূচির তিনটি মূল স্তম্ভের কোনোটিতেই এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। ২০২৩ সালে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ৪৭০ কোটি ডলারের এই ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণের সীমা আরও ৮০ কোটি ডলার বাড়িয়ে মোট ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৩৬৪ কোটি ডলারের অর্থ ছাড় পেলেও গত ডিসেম্বরের কিস্তিটি আটকে যায়। সংস্থাটি তখন নির্বাচিত সরকারের অনুপস্থিতিতে অর্থ ছাড় করতে অনীহা প্রকাশ করেছিল।

আশা করা হয়েছিল, ডিসেম্বরের বকেয়া এবং আগামী জুনের নতুন কিস্তি মিলিয়ে বাংলাদেশ প্রায় ১৩ কোটি ডলারের তহবিল পাবে। তবে সম্প্রতি আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করলেও জুনে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান করেনি। এই অনিশ্চয়তা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন করে চাপের সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া