দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জন্য আশার বাণী শুনিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে এবং বর্তমান লোডশেডিংয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
আজ (সোমবার) ‘চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরাম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রাজধানীর একটি অভিজাত ভেন্যুতে এই বিশেষ সভার আয়োজন করে। জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার ও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার চাপের কারণে দেশে যে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, "সরকার আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা বা ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করেছে।" তিনি আরও জানান, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান করা। এই ‘ল্যান্ড ক্রাইসিস’ বা ভূমির সংকট নিরসনে রেলওয়ে এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা অব্যবহৃত জমিগুলো ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ হাতে নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষি জমির ওপর চাপ না কমিয়েই নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকাশ সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তাঁরা বাংলাদেশে জ্বালানি খাতের আধুনিকায়ন এবং বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানিতে চীনের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদ্যুৎ খাতের ‘ক্লিন এনার্জি’ রূপান্তরে সরকারের নেওয়া সময়োচিত পদক্ষেপগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।