মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রসৈনিক, রণক্ষেত্রের অকুতোভয় যোদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। এই বীর সন্তানের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অম্লান রাখতে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান জানাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় যশোর জেলার শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির সন্নিকটে অবস্থিত এই মহান বীরের সমাধিতে বিজিবির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই এক চৌকস বিজিবি কন্টিনজেন্ট বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। বিউগলের করুণ সুরে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বীরশ্রেষ্ঠের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁর অসামান্য অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে তবারক বিতরণ করা হয়।
স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ এবং সহকারী পরিচালক মো. মাছেদুল ইসলাম খাঁন। এ ছাড়া বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে এই বীর শহীদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ আমাদের গর্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর যে অসীম সাহস ও আত্মত্যাগ, তা বিজিবির প্রতিটি সদস্যের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর এই মহান অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে এবং ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রাখতে আমরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও যথাযথ সম্মানের সঙ্গে দিবসটি পালন করছি।”
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ। দেশমাতৃকার তরে তাঁর এই অনন্য বীরত্বগাথার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মরণোত্তর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।