ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তনগর যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্থায়ী যাত্রাবিরতির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ রাজপথে, তথা রেললাইনে আছড়ে পড়েছে। বুধবার সকাল ৭টা ২০ মিনিট থেকে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মশাখালী এলাকায় আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল আপাতত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মশাখালী রেলওয়ে স্টেশনটি এই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার মানুষের আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনে এই স্টেশনে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি অপরিহার্য। গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে তারা এই দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ সকালে তারা কঠোর অবস্থানে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ ভোরে আন্দোলনকারীরা রেললাইনের ওপর লাল কাপড় টাঙিয়ে সংকেত প্রদান করেন, যা দেখে চালক যমুনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামাতে বাধ্য হন। সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রেনটি সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিল। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বার্তা—যতক্ষণ না পর্যন্ত যাত্রাবিরতির সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরবেন না।
এই আকস্মিক অবরোধের ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বলেন, "খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এবং ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, মশাখালী স্টেশনে যাত্রাবিরতির বিষয়টি এই এলাকার হাজার হাজার মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে আজকের এই স্বতঃস্ফূর্ত জনবিক্ষোভে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।